কি করতে চান, জনাব তারেক রহমান ?

সারসংক্ষেপ

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) বর্তমানে একটি জটিল পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, যেখানে রাজনৈতিক অস্থিরতা, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার নিয়ে বিতর্ক এবং কঠিন অর্থনৈতিক চাপ (বিশেষত স্বল্পোন্নত দেশ—এলডিসি—থেকে উত্তরণ) একযোগে দলের স্থিতিশীলতা এবং ভবিষ্যৎ কৌশলকে চ্যালেঞ্জ করছে। আগস্ট ২০২৪-এর গণ-অভ্যুত্থানের পর নতুন রাজনৈতিক কাঠামো তৈরি হলেও, দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এবং তৃণমূলের মধ্যেকার সমন্বয়হীনতা এবং অভ্যন্তরীণ উপদলীয় কোন্দল একটি ঐক্যবদ্ধ জাতীয় এজেন্ডা তৈরি করার পথে বাধা সৃষ্টি করেছে। এই চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলায় বিশ্লেষণাত্মক প্রতিবেদনটি দুটি মূল কৌশলগত পথ নির্দেশ করে: প্রথমত, স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দলীয় ঐক্যবদ্ধতা (internal unity) প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ করা এবং দ্বিতীয়ত, দলের ৩১-দফা কর্মসূচির ভিত্তিতে এলডিসি প্রস্তুতি এবং আর্থ-সামাজিক ন্যায়বিচারকে প্রাধান্য দিয়ে একটি বিশ্বাসযোগ্য জনমুখী কৌশল (People-Oriented Strategy) প্রণয়ন করা। দলের দীর্ঘমেয়াদী টিকে থাকার জন্য কেবল ক্ষমতার পরিবর্তন নয়, বরং প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা এবং জনগণের অর্থনৈতিক দুর্দশা নিরসনে একটি সুনির্দিষ্ট ও কার্যকর ম্যান্ডেট উপস্থাপন করা অপরিহার্য।

প্রথম অংশ: রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সাংগঠনিক ভঙ্গুরতার চ্যালেঞ্জ

১.১ দমনের প্রেক্ষাপট: আগস্ট ২০২৪ পরবর্তী রাজনৈতিক কাঠামোর বিশ্লেষণ

দীর্ঘদিন ধরে রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়ন এবং আইনি প্রতিকূলতার সম্মুখীন হওয়ায় বিএনপির সাংগঠনিক কাঠামোতে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বাধীন দুর্বলতা প্রকট হয়েছে। দলীয় প্রধান খালেদা জিয়া এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের অনুপস্থিতি বা আইনি সীমাবদ্ধতার কারণে নেতৃত্ব মূলত স্থায়ী কমিটি এবং মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের উপর নির্ভরশীল । এই পরিস্থিতির ফলস্বরূপ, দল দ্রুত এবং চূড়ান্ত কৌশলগত সিদ্ধান্ত গ্রহণে চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয়।

বিএনপি দাবি করে যে তারা দেশের বৃহত্তম এবং সবচেয়ে জনপ্রিয় রাজনৈতিক দল । তাদের মতে, ২০২৪ সালের নির্বাচন বর্জনের সিদ্ধান্ত সাংগঠনিক দুর্বলতার কারণে নয়, বরং জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণের এবং একটি অর্থপূর্ণ নির্বাচনের নিশ্চয়তা অর্জনের অঙ্গীকার থেকে এসেছে 2। তবে, এই জনপ্রিয়তার দাবি সত্ত্বেও, দলের কৌশলগত দুর্বলতা দমনের মুখে স্পষ্ট হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, ২০২৩ সালের অক্টোবরে বিক্ষোভ চলাকালীন বিচারকের বাসভবন, পুলিশের অবকাঠামো এবং অ্যাম্বুলেন্সে হামলা ও অগ্নিসংযোগের মতো সহিংসতার ঘটনা ঘটেছিল । একই সময়ে, দলীয় কর্মীদের বিরুদ্ধে ব্যাপক ধরপাকড়, ব্লক রেইড এবং নির্যাতনের অভিযোগও উত্থাপিত হয়েছে ।

পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, এই সহিংস ঘটনাগুলো সাবেক শাসক দলের কঠোর দমন-নীতিকে আন্তর্জাতিক মহলে বৈধতা দেওয়ার একটি আখ্যান তৈরি করে। প্রাক্তন শাসক দল প্রায়শই যুক্তি দিত যে বিএনপি এবং জামায়াতের গভীর ইসলামিস্ট সংযোগ রয়েছে, যা বিরোধীদের ওপর কঠোরতা আরোপকে ন্যায্য প্রমাণ করত। এইভাবে, যদিও বিএনপি বহু বছর ধরে রাষ্ট্রীয় দমনের শিকার, তাদের সাথে সম্পর্কিত সহিংসতার ঘটনাগুলি শেষ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করে এবং বিরোধীদের উপর কঠোরতা আরোপের পক্ষে প্রাক্তন শাসকের যুক্তিকে শক্তিশালী করে। এই পরিস্থিতিতে, নেতৃত্বহীনতা তৃণমূল পর্যায়ে কর্মী-সমর্থকদের উপর রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়ন মোকাবিলা করার জন্য প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক দৃঢ়তা ও কেন্দ্রীয় নির্দেশনার অভাব সৃষ্টি করে। এটি প্রমাণ করে যে জনপ্রিয়তা থাকা সত্ত্বেও সংগঠনটি কেন্দ্রীয়ভাবে দুর্বল এবং কৌশলগত দিক থেকে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।

১.২ অভ্যন্তরীণ গতিশীলতা এবং উপদলীয় কোন্দল (Fractionalization)

রাজনৈতিক দমন থেকে কিছুটা স্বস্তি এলেও, বিএনপির অভ্যন্তরে সংহতির অভাব এখন একটি বড় সমস্যা হিসেবে দাঁড়িয়েছে। ২০২৬ সালের নির্বাচনের আগে প্রার্থী মনোনয়নের প্রক্রিয়া নিয়ে বিতর্ক তীব্র হয়েছে। ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইনস্টিটিউট (IRI)-এর পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, দলীয় কাঠামোর মধ্যে মনোনয়ন এবং প্রার্থী বাছাই প্রক্রিয়া স্বচ্ছতার অভাবে ভুগছে। প্রায়শই ব্যক্তিগত নেটওয়ার্ক বা উপদলীয় স্বার্থের ভিত্তিতে প্রার্থী নির্বাচন করা হয়, যা মেধা বা সক্রিয়তার ভিত্তিতে হয় না ।

কিছু প্রার্থীর বিরুদ্ধে নিষ্ক্রিয়তা বা ক্ষমতাচ্যুত দলের (আওয়ামী লীগ) সাথে সম্পর্কের অভিযোগও উঠেছে, যা অভ্যন্তরীণ অবিশ্বাসকে বাড়িয়ে তুলেছে। উদাহরণস্বরূপ, সিরাজগঞ্জে একজন প্রার্থীর বিরুদ্ধে তহবিল তছরুপের আইনি অভিযোগ তার প্রার্থিতাকে জটিল করে তুলেছে । যদিও দলীয় নেতারা এই বিরোধগুলোকে দীর্ঘদিনের দমনের শিকার হওয়া একটি বড় দলের জন্য “স্বাভাবিক” বলে উল্লেখ করেছেন, তবে বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন যে এসব বিতর্ক অমীমাংসিত থাকলে তা দলের নির্বাচনী সম্ভাবনাকে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করতে পারে ।

এই পরিস্থিতিতে, দলের অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্রের সংকট স্পষ্ট। দমন-পীড়নের দীর্ঘ সময়কাল সত্ত্বেও, মনোনয়ন প্রক্রিয়াতে স্বচ্ছতার অভাব ইঙ্গিত দেয় যে প্রাতিষ্ঠানিক দ্বন্দ্ব নিরসনের প্রক্রিয়া দুর্বল। এই দুর্বলতা দলের ঐক্যবদ্ধতা নষ্ট করে এবং নির্বাচনে দলের সক্ষমতা হ্রাস করে। উপরন্তু, অভ্যন্তরীণ কোন্দল থেকে উদ্ভূত স্থানীয় সহিংসতা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের স্থিতিশীলতা প্রচেষ্টা এবং সামগ্রিকভাবে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার উপর জনগণের আস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। বিএনপিকে অবশ্যই অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্রের অনুশীলন এবং দলীয় সংহতিকে একটি জাতীয় কৌশলগত অগ্রাধিকার হিসেবে দেখতে হবে, কারণ একটি বিভক্ত দল এলডিসি গ্র্যাজুয়েশনের মতো জটিল অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলা করার জন্য প্রয়োজনীয় কঠিন, ধারাবাহিক নীতি প্রণয়ন করতে পারে না।

দ্বিতীয় অংশ: নির্বাচনী সংস্কারের অচলাবস্থা এবং ২০২৬ নির্বাচনের সময়ক্রমের বিতর্ক

২.১ নিরপেক্ষ সরকার ব্যবস্থার ঐতিহাসিক ভিত্তি

বাংলাদেশে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য একটি নিরপেক্ষ সরকারের দাবিটি গভীর ঐতিহাসিক ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত। এই দাবিটি মূলত রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ক্ষমতা পরিবর্তনের বৈধ মাধ্যম এবং পক্ষপাতহীন নির্বাচন ব্যবস্থা বজায় রাখার বিষয়ে ঐকমত্যের অভাব থেকে উদ্ভূত । ১৯৯০ সালে এরশাদ সরকারের পতন এবং ১৯৯৬ সালে বিএনপির অধীনে একটি একতরফা নির্বাচনের পর সৃষ্ট রাজনৈতিক অস্থিরতার পরিপ্রেক্ষিতে সংবিধানের ১৩তম সংশোধনীতে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রথা প্রবর্তন করা হয় 11। এটি এই দাবির ঐতিহাসিক এবং প্রাতিষ্ঠানিক গুরুত্ব প্রমাণ করে।

২.২ জুলাই জাতীয় সনদ এবং সংস্কারের কৌশলগত বিতর্ক

আগস্ট ২০২৪-এর গণ-অভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকার কর্তৃক প্রণীত ৮৪টি প্রস্তাবের সমন্বয়ে গঠিত জুলাই জাতীয় সনদকে অনেকেই ১৯৯১ সালের সংসদীয় গণতন্ত্রে উত্তরণের পর দেশের সবচেয়ে উচ্চাকাঙ্ক্ষী সংস্কার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছেন । এই সনদটি নির্বাহী ক্ষমতা খর্ব করে প্রাতিষ্ঠানিক ভারসাম্য শক্তিশালী করার লক্ষ্য রাখে।

কিন্তু এই সনদের বাস্তবায়নের সময়ক্রম নিয়েই মূল বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। বিএনপি দৃঢ়ভাবে দাবি করছে যে জাতীয় সনদটি ২০২৬ সালের নির্বাচনের পরে বাস্তবায়ন করা উচিত । তাদের কৌশলগত যুক্তি হলো, একটি অনির্বাচিত অন্তর্বর্তী সরকারের দ্বারা সাংবিধানিক সংস্কারের সম্পূর্ণ বাস্তবায়ন “পদ্ধতিগত অতিক্রম” (procedural overreach) হতে পারে।

এই অবস্থানের পেছনে একটি গুরুতর কৌশলগত ঝুঁকি রয়েছে। বিএনপির দ্রুত নির্বাচন চাওয়ার আগ্রহ এবং সংস্কার বিলম্বিত করার অবস্থান প্রমাণ করে যে দলটি তাৎক্ষণিক ক্ষমতা পুনরুদ্ধারের দিকে মনোনিবেশ করছে, দীর্ঘমেয়াদী প্রাতিষ্ঠানিক স্থিতিশীলতার দিকে নয়। যদি বিএনপি সংস্কারগুলো কার্যকর করার আগেই ক্ষমতায় আসে, তবে দুর্বল প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো এবং নির্বাহী ক্ষমতার অভাবে এই সংস্কারগুলো কার্যকর করা কঠিন হবে।

আরও উদ্বেগের বিষয় হলো, এই অবস্থানটি ছাত্র-নেতৃত্বাধীন অ্যান্টি-ডিসক্রিমিনেশন (SAD) আন্দোলন থেকে বিএনপিকে দূরে সরিয়ে দিচ্ছে। অন্তর্বর্তী সরকারে থাকা ছাত্র-নেতৃত্বাধীন উপদেষ্টারা দ্রুত নির্বাচনের আগে সংস্কার সম্পন্ন করার পক্ষে মত দিয়েছেন । বিএনপির দ্রুত নির্বাচনের দাবি এই সংস্কারপন্থী যুবগোষ্ঠীর সাথে একটি “ক্রমবর্ধমান বিভেদ” তৈরি করতে পারে, যা তাদের নতুন ভোটার এবং প্রগতিশীল জনসমর্থন থেকে দূরে সরিয়ে দেবে । এইভাবে, ক্ষমতা দখলের স্বল্পমেয়াদী লক্ষ্য প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের দীর্ঘমেয়াদী জাতীয় আগ্রহের সাথে সাংঘর্ষিক হচ্ছে।

২.৩ নীতিগত সুপারিশ: নির্বাচনী বিশ্বাসযোগ্যতা প্রতিষ্ঠা

বিএনপিকে অবশ্যই গণতান্ত্রিক রূপান্তরের প্রক্রিয়াতে সক্রিয়ভাবে অবদান রেখে নির্বাচনী বিশ্বাসযোগ্যতা প্রতিষ্ঠা করতে হবে। এই লক্ষ্যে, নির্বাচন কমিশন এবং অন্তর্বর্তী সরকারের উচিত রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে কাজ করে জুলাই সনদের রেফারেন্ডাম পরিচালনার জন্য একটি সুস্পষ্ট, আইনি কাঠামো তৈরি করা । বিএনপিকে জনগণের মধ্যে জুলাই সনদের উদ্দেশ্য এবং গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে সাহায্য করতে হবে (Robust Civic Education)।

এছাড়াও, নির্বাচন কমিশনকে সামরিক ও পুলিশ বাহিনীর সাথে সমন্বয় বাড়াতে হবে, যাতে স্থানীয় উত্তেজনা প্রশমিত হয় এবং নির্বাচন-সম্পর্কিত সহিংসতা প্রতিরোধ করা যায় । এই সমন্বিত নিরাপত্তা পরিকল্পনা ভোটারদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে আরও বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে সাহায্য করবে।

তৃতীয় অংশ: অর্থনৈতিক কাঠামোগত দুর্বলতা এবং এলডিসি গ্র্যাজুয়েশনের প্রভাব

৩.১ সামষ্টিক অর্থনীতির সংকট: মূল্যস্ফীতি, তারল্য ও ব্যাংকিং খাতে বিশৃঙ্খলা

বাংলাদেশের সামষ্টিক অর্থনীতি বর্তমানে উচ্চ মূল্যস্ফীতি, তারল্য সংকট এবং ব্যাংকিং খাতে অনাস্থার এক ত্রি-মাত্রিক সংকটে ভুগছে। বিগত দেড় দশক ধরে বিদ্যুতের দাম ১৮৮% এবং পানির দাম প্রায় ২০০% বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে । অক্টোবর ২০২৪-এ সামগ্রিক মূল্যস্ফীতি ১০.৮৭% এবং খাদ্য মূল্যস্ফীতি ১২.৬৬% ছুঁয়েছে।

শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পরেও বাংলাদেশ ব্যাংক একই অতি-সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি বজায় রেখেছে, যেখানে নীতি সুদহার ১০ শতাংশে উন্নীত করা হয়েছে । এই নীতি মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হওয়ার পাশাপাশি বেসরকারি খাত, বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পকে তীব্র তারল্য সংকটে ফেলেছে, যা শ্রমিক অসন্তোষ বাড়িয়ে তুলেছে।

এর পাশাপাশি, বিগত দেড় দশকে নজিরবিহীন লুটপাট ও বিশৃঙ্খলা ব্যাংক খাতে আমানতকারীদের আস্থা নষ্ট করেছে । অন্তর্বর্তী সরকার কিছু বেসরকারি ব্যাংকের পর্ষদ ভেঙে দিলেও, তারল্য সংকট তীব্র হয়েছে। এখানে দেখা যায় যে, এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন একটি বৈশ্বিক ধাক্কা যা অভ্যন্তরীণ শাসন ও কাঠামোগত দুর্বলতাগুলোকে (যেমন ব্যাংকিং লুটপাট) আরও প্রকট করে তুলছে । অর্থনীতিতে সুশাসনের সংকটকে কেবল উচ্চ সুদহারের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হচ্ছে, যা উৎপাদনশীল খাতকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। এই ‘নীতি সংকোচনের চক্র’ মোকাবিলায় বিএনপিকে অবশ্যই একটি সমন্বিত অর্থনৈতিক দর্শন দিতে হবে। মূল্যস্ফীতি এবং ইউটিলিটি মূল্যবৃদ্ধি জনসাধারণের অসন্তোষের প্রধান কারণ হওয়ায়, বিএনপির জনমুখী কৌশলের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত এসব গণদ্রব্যের মূল্য কমানোর সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দেওয়া।

৩.২ এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন (২০২৬): বাণিজ্য, শুল্ক এবং নীতিগত বিশ্বাসযোগ্যতা

২০২৬ সালের নভেম্বরে স্বল্পোন্নত দেশ (LDC) থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণ বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ। এই উত্তরণ শুল্কমুক্ত বাণিজ্য সুবিধা (GSP) হারানোর ঝুঁকি তৈরি করবে, বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাতের জন্য। ইউরোপীয় ইউনিয়ন তিন বছরের বর্ধিত সুবিধা (২০২৯ পর্যন্ত) দিলেও, অন্যান্য প্রধান বাজারগুলোতে চ্যালেঞ্জ বাড়বে । উপরন্তু, অন্যান্য স্বল্প-মধ্যম আয়ের দেশগুলোর মতো, LDC গ্র্যাজুয়েশনের পর রেমিট্যান্স প্রবাহও হ্রাস পেতে পারে ।

দেশের ব্যবসায়ী মহল অর্থনীতি প্রস্তুত না হওয়ায় গ্র্যাজুয়েশন ৫-৬ বছরের জন্য পিছিয়ে দেওয়ার দাবি জানাচ্ছে। অন্তর্বর্তী সরকারও গ্র্যাজুয়েশনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পরবর্তী নির্বাচিত সরকারের জন্য রেখে দেওয়ার অনুরোধ করেছে 16। এই পরিস্থিতিতে, বিএনপি নেতৃত্বের উপর গ্র্যাজুয়েশনের পক্ষে বা বিপক্ষে একটি সুচিন্তিত নীতিগত কাঠামো প্রণয়নের চাপ তৈরি হয়েছে।

অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করেছেন যে বাংলাদেশ কেবল শুল্ক বৃদ্ধির কারণে নয়, বরং আন্তর্জাতিক বাজারগুলোর কমপ্লায়েন্স এবং নিয়ন্ত্রক মান পূরণে ব্যর্থতার কারণে উচ্চ-মূল্যের বাজার থেকে “নিয়ন্ত্রক বর্জনের” ঝুঁকিতে রয়েছে । স্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং সামঞ্জস্যপূর্ণ অর্থনৈতিক নীতি ছাড়া বিদেশী বিনিয়োগকারীরা আস্থা পাবে না। LDC গ্র্যাজুয়েশন কেবল একটি অর্থনৈতিক ঘটনা নয়, বরং সুশাসনের অভাবের ফল। বিএনপিকে অবশ্যই দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা ও স্বচ্ছতা দেখিয়ে নীতিগত বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরি করতে হবে, অন্যথায় বর্তমান সুযোগ (সিদ্ধান্ত গ্রহণের সময় পাওয়া) হাতছাড়া হবে।


বিশ্লেষণাত্মক সারণি: বিএনপির ত্রি-সংকট এবং কৌশলগত সমাধান

বিএনপির চ্যালেঞ্জগুলোর গভীরতা এবং কৌশলগত সমাধানের প্রয়োজনীয়তা নিম্নলিখিত সারণিতে তুলে ধরা হলো:

সারণি ১: বিএনপির ত্রি-সংকট: চ্যালেঞ্জ, কার্যকারণ এবং কৌশলগত প্রভাব

চ্যালেঞ্জের ক্ষেত্রকার্যকারণ (গবেষণা-সমর্থিত)বিএনপি’র উপর তাৎক্ষণিক কৌশলগত প্রভাবউৎস
রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা ও দমনশীর্ষ নেতৃত্বের অনুপস্থিতি; ব্লক রেইড ও নির্যাতনের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় দমন; সহিংসতার আখ্যানের রাজনৈতিক ব্যবহারকার্যকর জাতীয় প্রচারণায় বাধা; অভ্যন্তরীণ দুর্বলতা বৃদ্ধি; আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তিতে জটিলতা1
অভ্যন্তরীণ উপদলীয় কোন্দলপ্রার্থী বাছাইয়ে স্বচ্ছতার অভাব; ব্যক্তিগত নেটওয়ার্ক ও উপদলীয় স্বার্থের প্রাধান্য; স্থানীয় পর্যায়ে বিরোধঅভ্যন্তরীণ সংহতি দুর্বল হওয়া; নির্বাচনের আগে জনগণের আস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব; স্থানীয় পর্যায়ে সহিংসতা বাড়ার ঝুঁকি8
নির্বাচনী সংস্কার বিতর্কজুলাই সনদের বাস্তবায়নের সময়ক্রম নিয়ে মতপার্থক্য; অনির্বাচিত সরকারের “পদ্ধতিগত অতিক্রম” এড়ানোর কৌশলসংস্কারপন্থী যুবগোষ্ঠীর (SAD) সাথে দূরত্ব তৈরি; প্রাতিষ্ঠানিক নিরপেক্ষতা প্রতিষ্ঠার সুযোগ হারানো4
অর্থনৈতিক চাপ (LDC ও মূল্যস্ফীতি)কাঠামোগত দুর্বলতা; ব্যাংকিং খাতের বিশৃঙ্খলা; উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও গণদ্রব্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধিজনগণের দুর্ভোগ নিরসনে জরুরি নীতিগত পদক্ষেপের চাপ; LDC গ্র্যাজুয়েশনজনিত ঝুঁকি মোকাবিলার জন্য নীতিগত বিশ্বাসযোগ্যতার অপরিহার্যতা12

চতুর্থ অংশ: কৌশলগত রোডম্যাপ: দলীয় ঐক্যবদ্ধতা (ঐক্য) অর্জন এবং অভ্যন্তরীণ সংস্কার

৪.১ অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র ও সংহতি প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ

বিএনপির অভ্যন্তরীণ সংহতি অর্জন কেবল একটি সাংগঠনিক লক্ষ্য নয়, বরং এটি একটি জাতীয় কৌশলগত অগ্রাধিকার। দলের নীতিগত বিশ্বাসযোগ্যতা নিশ্চিত করতে হলে প্রথমে অভ্যন্তরীণ দুর্বলতা দূর করতে হবে। এর জন্য প্রয়োজন:

১. স্বচ্ছ প্রার্থী বাছাই প্রক্রিয়া: বিএনপিকে অবশ্যই প্রার্থী বাছাই প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ, পদ্ধতিগত এবং প্রভাবমুক্ত করতে হবে। ব্যক্তিগত নেটওয়ার্কের পরিবর্তে মেধা ও সক্রিয়তার ভিত্তিতে মনোনয়ন নিশ্চিত করা উচিত, যাতে স্থানীয় কোন্দল ও সহিংসতা প্রশমিত হয় 8। এই স্বচ্ছতা তৃণমূল পর্যায়ে জনগণের আস্থা বাড়াতে সাহায্য করবে।

২. নেতৃত্বের সমন্বয় ও দ্বন্দ্ব নিরসন: স্থায়ী কমিটি এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের মধ্যে কৌশলগত সমন্বয় নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। দলীয় দ্বন্দ্ব নিরসনে প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়া তৈরি করা উচিত, যা উপদলীয় কোন্দলকে নিয়ন্ত্রণে রাখবে 17। একটি সুসংগঠিত তৃণমূল কাঠামো 18 কেবল ভোট পাওয়ার জন্য নয়, বরং জনমুখী নীতিগুলোর সঠিক বাস্তবায়নের জন্যও অপরিহার্য।

৩. নারী ও যুব নেতৃত্ব: নতুন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নারী প্রার্থীদের সক্রিয়ভাবে নিয়োগ এবং তাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি যুব নেতৃত্বকে উৎসাহিত করা প্রয়োজন। বিশেষত নতুন রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে যুবকদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে 8

৪.২ আধুনিক প্রচার এবং আউটরিচ

দলের আধুনিকায়ন প্রক্রিয়ায় ডিজিটাল ক্যাম্পেইন এবং যুব নেতৃত্বের বিকাশ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিএনপিকে ডিজিটাল প্রচারণায় বিনিয়োগ করতে হবে এবং যুব নেতৃত্বকে সামনের সারিতে আনতে হবে, যা দলটিকে নতুন প্রজন্মের ভোটারদের কাছে আরও প্রাসঙ্গিক করে তুলবে 8

দ্বিতীয়ত, নানামুখী অপপ্রচারের বিরুদ্ধে আখ্যান নিয়ন্ত্রণ (Narrative Control) অপরিহার্য। সংসদকে রাজনীতির কেন্দ্রে পরিণত করা এবং জনআকাঙ্ক্ষা বুঝে কর্মসূচি নির্ধারণ করা বিএনপির প্রধান চ্যালেঞ্জ 20। ডিজিটাল মাধ্যমে তাদের ৩১-দফা কর্মসূচির বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রদান করে একটি ইতিবাচক এবং সংস্কারপন্থী আখ্যানের নিয়ন্ত্রণ নিতে হবে।

পঞ্চম অংশ: জনমুখী কৌশল (জনমুখী কৌশল): সুশাসন ও অর্থনৈতিক নীতি

৫.১ ৩১-দফা রূপরেখা: সংস্কারের প্রতিশ্রুতির আধুনিকায়ন

বিএনপির যাত্রা শুরু হয়েছিল প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান ঘোষিত ১৯-দফা কর্মসূচির মাধ্যমে, যার মূলভিত্তি ছিল বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র এবং অর্থনৈতিক ন্যায়বিচার 20। বর্তমান ৩১-দফা রূপরেখা 22 এই ঐতিহাসিক অঙ্গীকারের একটি আধুনিক প্রতিচ্ছবি, যা রাষ্ট্রের কাঠামোগত মেরামতের (Structural Reforms) উপর জোর দেয় এবং জনগণের ন্যায্য অধিকার পুনরুদ্ধার করার লক্ষ্য রাখে 22

৫.২ অর্থনৈতিক রূপান্তর: ‘জনকল্যাণমুখী বাজেট’ এর অগ্রাধিকার

বিএনপিকে কেবল উন্নয়নের দিকে মনোনিবেশ না করে, বরং অর্থনৈতিক ও সামাজিক ন্যায়বিচারকে মূল লক্ষ্য করার একটি স্পষ্ট নীতিগত দর্শন উপস্থাপন করতে হবে। তাদের কৌশলগত লক্ষ্য হওয়া উচিত জনগণের দুর্ভোগকে অগ্রাধিকার দিয়ে একটি ‘জনকল্যাণমুখী বাজেট’ তৈরি করা, যা কেবল উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের নামে অর্থের যথেচ্ছ তছরুপের বিপরীত হবে 12

সুনির্দিষ্ট অর্থনৈতিক প্রতিশ্রুতি:

১. মূল্যস্ফীতি মোকাবিলা: অতি-সংকোচনমূলক মুদ্রানীতির পর্যালোচনা করে সাধারণ মানুষের ওপর চাপ কমানো এবং কার্যকর সরবরাহ শৃঙ্খল ব্যবস্থাপনা (supply chain management) গ্রহণ করা।

২. গণদ্রব্যের মূল্যহ্রাস: বিদ্যুৎ, গ্যাস, জ্বালানি তেল ও পানির মতো গণদ্রব্যের মূল্য নির্ধারণে পূর্বের গণবিরোধী পদ্ধতি বাতিল করে জনকল্যাণমুখী পদ্ধতি চালু করা। বিদ্যুতের মূল্য ১৮৮% এবং পানির মূল্য প্রায় ২০০% বৃদ্ধি পাওয়ার প্রেক্ষাপটে এই মূল্যহ্রাস জনসমর্থন পুনরুদ্ধারের চাবিকাঠি 12

৩. ব্যাংকিং খাত সংস্কার: নামে-বেনামে লুটপাটে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ, আমানতকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধার এবং বেসরকারি খাতের তীব্র তারল্য সংকট নিরসনে কঠোর ও স্বাধীন নিয়ন্ত্রক কাঠামো তৈরি করা 12

৫.৩ এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন মোকাবিলায় নীতিগত কাঠামো

এলডিসি পরবর্তী যুগে বাংলাদেশের বাণিজ্য সক্ষমতা বাড়াতে হলে বিএনপিকে কাঠামোগত সংস্কারের ওপর জোর দিতে হবে। এর জন্য প্রয়োজন—

১. বাণিজ্য নীতিতে প্রাতিষ্ঠানিক আধুনিকায়ন: স্বল্পমেয়াদী রাজনৈতিক চক্র থেকে বাণিজ্য নীতিকে বিচ্ছিন্ন করার জন্য একটি স্থায়ী বাণিজ্য নীতি পরিষদ (Permanent Trade Policy Council) প্রতিষ্ঠা করা। এই পরিষদ অর্থনীতিবিদ, নীতিনির্ধারক এবং বেসরকারি খাতের সমন্বয়ে গঠিত হবে, যা স্থিতিশীল ও দূরদর্শী নীতি নিশ্চিত করবে 14

২. রপ্তানি বহুমুখীকরণ ও কমপ্লায়েন্স: শুধু শুল্ক নয়, নিয়ন্ত্রক বর্জন এড়াতে রপ্তানি বৈচিত্র্য, উন্নত কমপ্লায়েন্স মান এবং অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে উচ্চ-মূল্যের খাতে বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে হবে 14

৩. নীতিগত বিশ্বাসযোগ্যতা: আন্তর্জাতিক মানদণ্ড মেনে স্বচ্ছ নীতিনির্ধারণ এবং ঐক্যবদ্ধ নিয়ন্ত্রক কাঠামো তৈরি করা জরুরি। নীতিগত বিশ্বাসযোগ্যতা আকর্ষণ করতে না পারলে দেশের অনুকূল জনসংখ্যা এবং ভৌগোলিক অবস্থান সত্ত্বেও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হবে 14


উপসংহার: ঐক্যবদ্ধতা এবং জনমুখী নীতির অপরিহার্যতা

বিএনপির বর্তমান চ্যালেঞ্জগুলো একক রাজনৈতিক বা অর্থনৈতিক সংকটের ফল নয়, বরং সাংগঠনিক দুর্বলতা এবং শাসনতান্ত্রিক ঘাটতির সম্মিলিত প্রভাব। রাজনৈতিক অস্থিরতা, সংস্কারের সময়ক্রম নিয়ে বিতর্ক, এবং এলডিসি গ্র্যাজুয়েশনের মতো অর্থনৈতিক ধাক্কাগুলো একে অপরের সাথে আন্তঃসংযুক্ত।

রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে, দ্রুত ক্ষমতা দখলের আকাঙ্ক্ষা যদি জুলাই জাতীয় সনদের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারকে বিলম্বিত করে, তবে দলটি যুব সমাজ এবং সংস্কারপন্থী জনসমর্থন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারে। অর্থনৈতিকভাবে, উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং ব্যাংকিং খাতের বিশৃঙ্খলা জনগণের দুর্ভোগকে তীব্র করেছে।

এই পরিস্থিতি মোকাবিলায়, বিএনপির জন্য কেন্দ্রীয় উপসংহার হলো: দলের দলীয় ঐক্যবদ্ধতা কেবল একটি অভ্যন্তরীণ প্রয়োজনীয়তা নয়, বরং এটি একটি কার্যকর জনমুখী কৌশল বাস্তবায়নের ভিত্তি। অভ্যন্তরীণ স্বচ্ছতা এবং সংহতি নিশ্চিত করার মাধ্যমেই বিএনপি একটি বিশ্বাসযোগ্য বিকল্প শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হতে পারে। তাদের ৩১-দফা কর্মসূচিকে অবশ্যই মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, ইউটিলিটি মূল্যহ্রাস এবং ব্যাংকিং খাতের সংস্কারের মতো সুনির্দিষ্ট, জনকল্যাণমুখী প্রতিশ্রুতিতে রূপান্তর করতে হবে। দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে হলে, দ্রুত নির্বাচন এবং ক্ষমতা পুনরুদ্ধারের চেয়ে প্রাতিষ্ঠানিক মেরামত ও অর্থনৈতিক ন্যায়বিচারকে অগ্রাধিকার দেওয়া অপরিহার্য।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top