কি করতে চান, জনাব তারেক রহমান ?

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ১৯৭৫ সালের আগস্টের পরবর্তী সময়টি ছিল সবচেয়ে অস্থির ও অনিশ্চিত এক অধ্যায়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকাণ্ড দেশজুড়ে এক গভীর শূন্যতা ও রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি করে। পরপর সেনা অভ্যুত্থান, সরকার পরিবর্তন, রাজনৈতিক সহিংসতা, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট—সব মিলিয়ে জাতি এক গভীর অনিশ্চয়তায় নিমজ্জিত হয়। সাধারণ মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাতে থাকে, প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ভেঙে পড়ে, আর রাজনৈতিক নেতৃত্বের অভাব দেশকে এক জটিল সংকটে ঠেলে দেয়। এই প্রেক্ষাপটে যিনি নেতৃত্বের ভার গ্রহণ করেন, তিনি ছিলেন সেনা কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান। সেনাবাহিনীর একজন দায়িত্বশীল সদস্য হিসেবেও তিনি শুধু সামরিক শক্তির ওপর নির্ভর করেননি, বরং জনগণের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করে পরিস্থিতি স্থিতিশীল করার অসাধারণ কৌশল প্রদর্শন করেন।

১৯৭৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তখন দেশের রাজনৈতিক স্থিতি ছিল ভঙ্গুর, কিন্তু তিনি সেনাবাহিনীর সমর্থনকে কৌশলগতভাবে ব্যবহার করে প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন, অর্থনীতিতে সংস্কার আনেন এবং জনগণের আস্থা পুনর্গঠনে মনোযোগ দেন। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল—তিনি সাধারণ মানুষের সমস্যাকে বোঝার চেষ্টা করেন এবং সরাসরি তাদের সঙ্গে কথা বলেন। গ্রামীণ সফর, শহর পরিদর্শন, সহজ ভাষায় বক্তৃতা, এবং সহানুভূতিশীল নেতৃত্ব তাকে দ্রুত সাধারণ মানুষের কাছে জনপ্রিয় করে তোলে। রেডিও ও সংবাদপত্রের মাধ্যমে বার্তা পৌঁছে দিয়ে তিনি জনগণের মধ্যে এক বিশ্বাসযোগ্য ও দৃঢ় নেতার ভাবমূর্তি তৈরি করেন।

আর অন্য দিকে তারই বড় সন্তান জনাব তারেক রহমান যেন রাজনীতির খেই হারিয়ে ফেলেন:

অন্যদিকে, বর্তমান সময়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশের রাজনীতিতে একটি আলোচিত নাম হলেও তার জনসংযোগ কৌশলে সীমাবদ্ধতা দেখা যায়। তার কার্যক্রম প্রধানত ফেসবুক পোস্ট, লাইভ ভিডিও বা জুম কলে সীমাবদ্ধ থাকায় তিনি সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন করতে পারছেন না। মাঠপর্যায়ের সফর বা জনসভায় তার উপস্থিতি না থাকায় সাধারণ মানুষের কাছে তার একটি দূরবর্তী ইমেজ তৈরি হয়েছে। শুধুমাত্র সামাজিক মাধ্যমের ওপর নির্ভরশীল যোগাযোগ পদ্ধতি তাকে বাস্তব রাজনৈতিক মাঠ থেকে কিছুটা বিচ্ছিন্ন করে রেখেছে, যার ফলে তার নেতৃত্বের প্রভাব জনগণের মধ্যে গভীরভাবে প্রভাব রাখতে পারছে না।

জিয়াউর রহমানের নেতৃত্ব ছিল মাটির কাছাকাছি, যেখানে জনগণ তার বক্তব্য, আচরণ ও উদ্যোগে নিজেদের প্রতিফলন দেখতে পেত। অন্যদিকে, তারেক রহমানের নেতৃত্বের ধরন মূলত ভার্চুয়াল, যা মানুষের মন ছুঁয়ে যেতে ব্যর্থ হচ্ছে। ইতিহাস বলছে, একজন নেতার প্রকৃত শক্তি আসে জনগণের সরাসরি সমর্থন থেকে—যা অর্জন করা সম্ভব নয় শুধুমাত্র অনলাইন কার্যক্রমের মাধ্যমে।

জনাব তারেক রহমান এর এর জন্য গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হলো- অতীত ভুলে যাবেন না, অতীত আমাদের শিক্ষা ও অভিজ্ঞতা দেয় আর রাজনৈতিক সাফল্যের মূল ভিত্তি হলো জনসংযোগ। একজন নেতা যদি মানুষের মাঝে না যান, তাদের সমস্যার কথা না শোনেন, এবং সহজ ভাষায় তাদের হৃদয়ে জায়গা না করে নিতে পারেন, তাহলে জনপ্রিয়তা টিকে থাকে না। জিয়াউর রহমান জনগণের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ, সহানুভূতি, এবং প্রশাসনিক দৃঢ়তার সমন্বয়ে একটি স্থিতিশীল নেতৃত্বের উদাহরণ সৃষ্টি করেছিলেন। বিপরীতে, তারেক রহমানের উচিত ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেওয়া—মাঠপর্যায়ে সরাসরি উপস্থিতি, গ্রামীণ সফর, জনসভা আয়োজন, এবং বাস্তব সমস্যা বোঝার মধ্য দিয়েই প্রকৃত নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়।

অতএব, ইতিহাসের এই শিক্ষা যদি ভুলে যেতে চান তাহলে মনে রাখুন কোনো নেতা বা জাতি অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা না নেয়, তবে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিপর্যয় অনিবার্য হয়ে ওঠে। সফল নেতৃত্ব মানে শুধু ক্ষমতায় থাকা নয়; বরং জনগণের আস্থা অর্জন করা, তাদের ভাষায় কথা বলা, এবং তাদের জীবনের সঙ্গে নিজেকে সংযুক্ত করা। জিয়াউর রহমানের মতো সেই সংযোগই একজন নেতাকে দীর্ঘমেয়াদে স্মরণীয় ও প্রভাবশালী করে তোলে।

আপনার অপেক্ষায় সারাদেশের জনগণ ফিরে আসুন রাজার বেশে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top